নিউজ ডেস্ক।।
বরিশাল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে নানা অভিযোগ ও অপপ্রচার ছড়ানো হলেও এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সচেতন নাগরিক।
গত বছরের ২৭ অক্টোবর বরিশালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আল ইমরান জেলা এলজিইডিকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তার সহকর্মীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় সচল করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলার বিভিন্ন স্থানে বছরের পর বছর ধরে বন্ধ থাকা বা ধীরগতিতে চলমান সড়ক ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন তিনি। বিশেষ করে মেহেন্দিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় জনগণের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ানো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্প পুনরায় চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন। এমনকি ঠিকাদারদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না বলেও তারা চ্যালেঞ্জ করেন।
এ বিষয়ে কয়েকজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজের মান বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প সম্পন্ন করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তাদের দাবি, বিল উত্তোলন কিংবা অন্য কোনো প্রশাসনিক কাজে কোনো ধরনের কমিশন বা অনৈতিক সুবিধা দিতে হয়নি। বরং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে তিনি সবসময় সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করেন।
সম্প্রতি নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, বিল পরিশোধে শতাংশ হারে অর্থ দাবি এবং কম্পিউটার অপারেটর এনামুল হককে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কম্পিউটার অপারেটর এনামুল হক বলেন, তার বদলি ছিল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এ ঘটনায় নির্বাহী প্রকৌশলীকে জড়িয়ে যেসব কথা প্রচার করা হচ্ছে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় আল ইমরানকে সবসময় সততা ও নীতির সঙ্গে কাজ করতে দেখেছেন।
অন্যদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে একটি তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা ধরনের মন্তব্য ও অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, যা সঠিক তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের কয়েকজন প্রতিনিধি বলেন, অনেক সময় কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনকারী এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কর্মকর্তারা স্বার্থান্বেষী মহলের বিরাগভাজন হন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। তারা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে মতামত দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরান বলেন, “আমি জনগণের স্বার্থে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে বাধা সৃষ্টি হয়ে থাকলে তারা অপপ্রচার চালাতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমার কাজই আমার মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। আমি আমার দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যেতে চাই।”
বর্তমানে বরিশাল এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, কাজের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানকে ঘিরে চলমান অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
Leave a Reply